চাঁদপুর-৩ এর এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর নির্দেশে ১৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হলো এ্যাড. ইমরান সোয়েবকে
চাঁদপুরের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রশু খাঁর কথা মনে আছে? যার লক্ষ্য ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানো। ঠিক তেমনই এক বিকৃত মস্তিস্কের অপরাধের মাস্টারমাইন্ড, মাদক সম্রাট এবং ব্ল্যাকমেইলারের অন্ধকার সাম্রাজ্যের অবসান ঘটল চাঁদপুরে। অ্যাডভোকেট ইমরান—নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা, যিনি আইনের মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতেন, আর ঘরের ভেতর চালাতেন এক নারকীয় যৌন ও মাদক সাম্রাজ্য।
গতকাল রাতে সাবাহ নিউজ টিমের বিশেষ অনুসন্ধানের পর, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (MP) ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশে এক নাটকীয় অভিযানে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ১৮ পিস ইয়াবাসহ এই ভয়ানক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে।
ইমরানকে হাতেনাতে ধরার জন্য সাবাহ নিউজ টিম তার ভুক্তভোগী স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে। এরপর সমস্ত তথ্য ও প্রমাণসহ চাঁদপুর পুলিশ সুপারকে (SP) জানানো হয়। পুলিশ সুপার প্রথমে অভিযান চালানোর আশ্বাস দিলেও, কিছুক্ষণ পর **”ফোর্স সংকট” (জনবল সংকট)**-এর অজুহাত দেখিয়ে অভিযান চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাবাহ নিউজ টিম সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে, সরাসরি যোগাযোগ করে চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি ফরিদ আহমেদ মানিকের সাথে। ভুক্তভোগী নারীর জীবন বাঁচাতে এবং এই ভয়ানক অপরাধীকে ধরতে সমস্ত তথ্য তার কাছে তুলে ধরা হয়।
তথ্য পাওয়ার পরপরই সাধারণ একজন ভিকটিম এর ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন এমপি ফরিদ আহমেদ মানিক। রাত ১১টার পর সাধারণত যেখানে জনপ্রতিনিধিদের পাওয়া দুষ্কর, সেখানে তিনি ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।
রাত ১২টার কিছু আগে এমপি মানিক নিজে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি-কে সরাসরি ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এমপির কড়া নির্দেশে এসআই নাজমুল ও আলিমসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ইমরানের বাসায় হানা দেয়। অভিযান চালিয়ে এই নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা ও তথাকথিত আইনজীবি ১৮ পিস ইয়াবাসহ, হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে তার নরকতুল্য বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তার অসহায় স্ত্রী
গত ৭ই জুন সাবাহ নিউজের বিশেষ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘জিরো আওয়ার’-এ প্রথম অ্যাডভোকেট ইমরানের অপরাধ সাম্রাজ্যের সব গোমর ফাঁস করা হয়। কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনি তার পৈশাচিকতা।
বিভিন্ন নারীদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিজের বিকৃত যৌন লালসা মেটানোই ছিল তার নিয়মিত কাজ।
পরিবারের ওপর নির্যাতন: নিজের স্ত্রী ও সন্তানের সামনেই এই ফ্ল্যাটে চলত এসব অপকর্ম এবং রাতের বেলা বসত মাদকের মহা উৎসব। ইমরানের দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, তিনি এই অপরাধীর কাছে কার্যত জিম্মি ছিলেন। প্রতিবাদ করলেই জুটত অমানুষিক মারধর।
ইমরান এতটাই বিকৃত মস্তিষ্কের যে, অভিযোগ রয়েছে সে নিজের প্রথম স্ত্রীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করত, এমনকি নিজের (সৎ মেয়ে) ওপরও ছিল তার কুদৃষ্টি। নিজের মাকে ব্যবহার করেও সে চালাত নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। আত্মীয়-স্বজন সবাই তার আতঙ্কে দিন কাটাত।
জনগণের জন্যই আমি এবং আমার সরকার কাজ করে যাবে।”
— এমপি ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৩
সাবাহ নিউজ ভাষ্য:
রাত ১১টার পর যেখানে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে নেতাদের পাশে পায় না, সেখানে চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি মানিক যেভাবে একজন সাধারণ মানুষের কল ধরে, গভীর রাতে পুলিশ পাঠিয়ে এই ভয়ানক অপরাধীকে আইনের আওতায় এনেছেন—তা সত্যিই বিরল। মুখে সবাই ‘জনগণের নেতা’ দাবি করলেও কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন এমপি মানিক। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় এমনই দায়িত্বশীল নেতৃত্ব আশা করে।
প্রতিবেদন: ইমরুল কায়েস, সাবাহ নিউজ


