পাঁচ বছরেও চালু হয়নি কোটি টাকার পৌর মার্কেট, রাজস্ব হারাচ্ছে আমতলী পৌরসভা
Oplus_16908288
বরগুনার আমতলী পৌরসভায় সরকারি অর্থে নির্মিত কোটি কোটি টাকার একাধিক পৌর মার্কেট ও স্টল পাঁচ বছর ধরে বরাদ্দহীন ও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রতায় এসব স্থাপনা থেকে এক টাকাও রাজস্ব আদায় করতে পারেনি পৌরসভা। উল্টো কয়েকটি স্থাপনা অবৈধ দখল ও ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সিটিইআইপি (CTEIP) প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমতলী পৌরসভায় একাধিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরান বাজার এলাকায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল বহুমুখী পৌর মার্কেট, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল পৌর সুপার মার্কেট কমপ্লেক্স এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় পশুর হাট এলাকায় ২ কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬টি স্টল নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরও ১৪টি স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব স্থাপনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার বেশি।
তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পার হলেও অধিকাংশ স্থাপনা এখনো ব্যবহারহীন। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরান বাজারের পৌর মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে তালা ঝুলছে। পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সুপার মার্কেট কমপ্লেক্স কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় পশুর হাট এলাকার বেশিরভাগ স্টলও খালি পড়ে আছে। কয়েকটি স্টলে অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও সেগুলোর বিপরীতে পৌরসভার রাজস্ব আদায়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দোকান ও স্টল বরাদ্দের দাবি জানানো হলেও পৌরসভা কোনো উন্মুক্ত নিলাম বা স্বচ্ছ বরাদ্দ প্রক্রিয়া গ্রহণ করেনি। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোগুলোও ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা বছরের পর বছর অচল থাকলেও এগুলো চালুর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। কোথাও কোথাও অবৈধভাবে দখল করে দোকান ব্যবহার এবং ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো যদি বছরের পর বছর ব্যবহারহীন পড়ে থাকে, তাহলে নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? তাদের মতে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, জনস্বার্থে তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “পৌরসভার মার্কেট ও স্টলগুলো দীর্ঘদিন বরাদ্দহীন থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় এগুলো বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম, অবৈধ দখল বা ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পৌরসভার সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা স্থাপনাগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য আমরা কাজ করছি।”
স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌর মার্কেট ও স্টলগুলো দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে ব্যবহার উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন অচল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণের পরও কেন বছরের পর বছর সেগুলো জনস্বার্থে ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে পৌরবাসী, আর রাজস্ব হারাতে থাকবে আমতলী পৌরসভা।


