আমতলীতে সার্টিফিকেট সহকারীকে ঘিরে বিতর্ক, তদন্ত চায় স্থানীয়রা
Oplus_16908288
বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী চিন্ময় হাওলাদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি, স্ত্রীকে একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষক পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রেষণে আমতলী ইউএনও কার্যালয়ে যোগ দেন চিন্ময় হাওলাদার। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভুর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তাঁর সুপারিশেই এ বদলি হয়। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রভাব কাজে লাগিয়ে চিন্ময় হাওলাদার তাঁর স্ত্রী তুলি রানীকে আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর দরবারসংলগ্ন কুতুবপুর ইসরাইলিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষক পদে নিয়োগ পাইয়ে দেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, “চিন্ময় হাওলাদার নিজেকে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, চাকরি দিলে দরবারে একটি টিউবওয়েল এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য অনুদান এনে দেবেন। সেই আশ্বাসে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত দরবারে কোনো টিউবওয়েল কিংবা অনুদান পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “তুলি রানী নিয়মিত মাদ্রাসায় আসতেন না। পরে আমি তাঁকে আসতে নিষেধ করে দিয়েছি।”
তবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন সার্টিফিকেট সহকারী হওয়া সত্ত্বেও চিন্ময় হাওলাদার আমতলীতে ব্যয়বহুল বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। সেখানে দামি আসবাবপত্র ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করছেন বলেও দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এখনো স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চিন্ময় হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।


