মাদকসহ আটক যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বনানী থানার বিরুদ্ধে

দেশজুড়ে
মাদকসহ আটক যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বনানী থানার বিরুদ্ধে
নিউজ ডেস্ক
২৯ জুন ২০২৬

রাজধানীর বনানীতে ট্রাফিক পুলিশের দুই সার্জেন্টের ধাওয়ায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করে তার কাছ থেকে ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ব্যক্তিকে বনানী থানায় হস্তান্তরের পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ সদস্য সার্জেন্ট আনিসুর রহমান (ফেসবুক আইডি: Sgt Anisur Rahman) গত ২৭ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি জানান, দায়িত্বরত সার্জেন্ট মো. আঞ্জুম আল হাসিব (এসটি-৬৭) এবং সার্জেন্ট কাজল রায় বনানীর সৈনিক ক্লাবের সামনে দায়িত্ব পালনকালে একটি মোটরসাইকেল চালককে সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামার সংকেত দেন।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে দুই সার্জেন্ট তার পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ইয়াবা সদৃশ পাউডার ও দুই পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। তবে আটককৃত ব্যক্তির নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল, ইয়াবা পাউডার এবং দুই পুরিয়া হেরোইন। পরে আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ২৭ জুন রাতে বনানী থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে হাজতখানায় দেখা যায়নি। এ বিষয়ে দায়িত্বরত কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে, একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক ওই ব্যক্তিকে বনানী থানায় নেওয়ার পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বনানী থানা পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।