আবারও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন: ২০২৭-এ নতুন কারিকুলামের প্রস্তুতি, অভিভাবক-শিক্ষাবিদদের শঙ্কা
বাংলাদেশে শিক্ষাক্রমে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আর শিক্ষাবিদরা বলছেন— প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হবে না।
আগামী বছরও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে আগের ২০১২ সালের কারিকুলামেই চলবে পাঠদান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম ২০২৩ সালে বাস্তবায়ন শুরু হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা বাতিল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় একযুগ পুরনো কারিকুলামে ফিরলে বর্তমান প্রজন্মের দক্ষতা অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু করে ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণিতে তা সম্প্রসারিত হবে। এনসিটিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “যারা এখন নবম শ্রেণিতে, তারা ২০২৭ সালে এসএসসি দেবে। তাই পুরোনো কারিকুলাম ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলবে। এরপর নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে।”
ঢাকার অভিভাবক শীলা বেগম বলেন, “প্রতিবার আমাদের সন্তানদের উপর নতুন শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। তারা মানসিক চাপে থাকে, কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না।”
অন্য এক অভিভাবক সিফাত বলেন, “আমরা চাই, দেশের বাস্তবতা বুঝে আধুনিক কারিকুলাম করা হোক। বিদেশি শিক্ষা কাঠামোর অনুকরণ করলে শিক্ষার্থীরা আরও বিভ্রান্ত হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, “কারিকুলাম যত আধুনিক হোক না কেন, যদি শিক্ষকরা প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। ভালো ফলাফল মানেই ভালো শিক্ষা নয়। আমরা চাচ্ছি দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে।”
তিনি আরও বলেন, “কারিকুলামে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে না দিয়ে শিক্ষার্থীর বাস্তব সক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি গঠনের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”


