৪৪তম বিসিএসে ‘রিপিট ক্যাডার’ সুপারিশে হতাশা!

শিক্ষা
৪৪তম বিসিএসে ‘রিপিট ক্যাডার’ সুপারিশে হতাশা!
নিউজ ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২৫

৪৪তম বিসিএসে একাধিক প্রার্থীকে পূর্বেই প্রাপ্ত ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ করায় ব্যাপক হতাশা প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন শতাধিক প্রার্থী। এতে হতাশ হয়েছেন ‘রিপিট ক্যাডার’ প্রার্থীরাও, আবার ক্ষুব্ধ হয়েছেন নন-ক্যাডারভুক্ত সফল প্রার্থীরা।

৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. শাহদুদুজ্জামান বর্তমানে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে কর্মরত। কিন্তু ৪৪তম বিসিএসেও তিনি একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “একই ক্যাডারে আবার সুপারিশে আমি নিজেই বিব্রত। আমার জায়গায় নতুন কাউকে সুযোগ দিলে দেশ ও প্রার্থীরই উপকার হতো।”

এমন অভিজ্ঞতা ভোগ করেছেন প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে কর্মরত মশিউর রহমান সবুজও। ৪১তম বিসিএসে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার পরও ৪৪তম বিসিএসেও তিনি একই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “পিএসসি কি আমাদের তথ্য রাখে না?”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বলছে, তারা প্রার্থীর পছন্দক্রম ও মেধা অনুযায়ী সুপারিশ করে থাকে। কারো আগের বিসিএসের ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদানের তথ্য তাদের কাছে না থাকায় এ ধরনের ‘রিপিট ক্যাডার’ সুপারিশ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পদ স্বল্পতায় সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের অনেকেই বলছেন, “যেহেতু শত শত রিপিট ক্যাডার পদে যোগ দেবেন না, সেসব শূন্যপদে নন-ক্যাডার তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।”

এ দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। একজন নন-ক্যাডার প্রার্থী বলেন, “গেজেট প্রকাশের আগেই পাঁচ শতাধিক প্রার্থী পদের বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাহলে ওই শূন্যপদে আমরা কেন সুযোগ পাব না?”

একজন পিএসসি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যদি পিএসসিকে নন-ক্যাডার তালিকা থেকে শূন্যপদে সুপারিশ করতে বলে, তাহলে তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে না।”

বিশেষজ্ঞ ও চাকরি প্রত্যাশীরা বলছেন, ভাইভার আগে চয়েস ফরম সংশোধনের সুযোগ দিলে এ ধরনের বিড়ম্বনা এড়ানো যেত। পাশাপাশি প্রার্থীদের চাকরিতে যোগদানের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে আপডেট রাখলে এমন ‘ডুপ্লিকেট সুপারিশ’ আর হতো না।