শেষ হলো অনিশ্চয়তা: ‘সেন্ট্রাল ইউনিভার্সি‌টি’-এর অধীনে ভর্তি শুরু হতে যাচ্ছে সাত কলেজে

শিক্ষা
শেষ হলো অনিশ্চয়তা: ‘সেন্ট্রাল ইউনিভার্সি‌টি’-এর অধীনে ভর্তি শুরু হতে যাচ্ছে সাত কলেজে
নিউজ ডেস্ক
১৫ জুলাই ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলের পর অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে যাওয়া রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজ অবশেষে শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’-এর অধীনে এসব কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে চলতি মাসেই।

ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই—এমনটাই জানিয়েছেন সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। এতে ভর্তির আবেদন শুরু হবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এবং ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে আগস্টের শেষ কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

নতুন কাঠামোর আওতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটসহ যাবতীয় নথিতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নাম ব্যবহার হবে। প্রশাসক জানিয়েছেন, “আমরা আইনগত অনুমোদনের অপেক্ষা করছি। তবে পাঠদানের অনুমোদন পেয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করছি।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর আগে ঢাবির অধীনে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাদের পুনঃনির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে। কেউ আবেদন রাখতে চাইলে পারবেন, আবার চাইলে নতুন পরিস্থিতিতে আবেদন বাতিলও করতে পারবেন।

সাত কলেজে এবারও প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন। সিলেবাস ও একাডেমিক কাঠামো থাকবে পূর্বের মতোই। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিজ্ঞান অনুষদে প্রায় ৮ হাজার, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ১০ হাজার এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে প্রায় ৫ হাজার আসন বরাদ্দ রয়েছে।

বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের আটকে থাকা চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে গতিও এসেছে। প্রশাসক জানিয়েছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই সব বিভাগীয় ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত টেকনিক্যাল সহায়তা এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে বুয়েট থেকে নিতে চায় সাত কলেজ প্রশাসন। এ বিষয়ে বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ নিয়ে গঠিত সাত কলেজ ২০১৭ সালে ঢাবির অধিভুক্ত হয়। তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি তা বাতিল করা হয় এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অক্টোবরে ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাওয়া—প্রক্রিয়াটি যেন দ্রুত, স্বচ্ছ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্পন্ন হয়।