ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

শিক্ষা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
নিউজ ডেস্ক
১৯ জুলাই ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, এটি আত্মহত্যা নয়— হত্যা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষাবর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সাজিদের সহপাঠীদের উদ্যোগে শুরু হয় প্রতিবাদ কর্মসূচি। এতে সংবর্ত ৩৬ ব্যাচের (২০২১-২২) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন প্রজ্বলিত ৩৫ ব্যাচ (২০২০-২১) ও ইনকিলাব ৩৬ ব্যাচের (২০২২-২৩) শিক্ষার্থীরাও। আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও যুক্ত হন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করেন ক্যাম্পাস এলাকা:
“জাস্টিস ফর সাজিদ”, “কাজ না করে বেতন নে, বেতন কি তোর হালাল বে”, “ইবির পুকুরে ভাসছে লাশ, তদন্ত চলবে ২ মাস?”, “শিক্ষার্থী মর্গে, প্রশাসন ঘুমায় স্বর্গে”— এসব প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে তারা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  1. দ্রুততম সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ

  2. পুরো ১৭৫ একর ক্যাম্পাসে সিসিটিভি স্থাপন

  3. আবাসিক হলে ডিজিটাল এন্ট্রি ও এক্সিট সিস্টেম

  4. ক্যাম্পাস ঘিরে পূর্ণ নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ

  5. স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও সক্রিয় রাখা

  6. ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ

  7. উপাচার্য, প্রো-ভিসি ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা

  8. তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি

  9. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ও ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণ বাস্তবায়ন

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাজিদের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-ভিসিসহ কোনো প্রশাসনিক ব্যক্তি দুঃখপ্রকাশ বা বিবৃতি প্রদান করেননি, যা হতাশাজনক। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি শিক্ষার্থীর মরদেহ ভেসে ওঠে, আর কর্তৃপক্ষ মুখ না খোলে, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবিসমূহ মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। তারা বলেন, “এটি কেবল সাজিদের ন্যায়বিচারের দাবি নয়— এটি আমাদের সবার নিরাপত্তার প্রশ্ন।”