৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রার্থীদের ক্ষোভ
৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের কয়েকটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে সঠিক উত্তর না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অন্তত দুইটি প্রশ্নে এমন অপশন দেওয়া হয়েছে, যেখানে সঠিক উত্তরই নেই। ফলে প্রশ্নগুলো নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে সময় নষ্ট হয় এবং মানসিক চাপে পড়েন অনেকেই।
সেট-১ এর ১৪৬ নম্বর প্রশ্নে একটি কম্পিউটারের প্রসেসরের ক্লক স্পিড ৪.০০ গিগাহার্জ হলে ক্লক সাইকেল টাইম কত হবে—এমন প্রশ্ন করা হয়। চারটি অপশনের কোনোটিই সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞরা। কোচিং ইনস্ট্রাক্টর রেদোয়ান রাকিব বলেন, “সঠিক উত্তর হবে ০.২৫ ন্যানোসেকেন্ড, যা অপশনগুলোতে ছিল না।”
সেট-১ এর ১১০ নম্বর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি কোন প্রদেশে অবস্থিত?’ কিন্তু দেওয়া চারটি অপশনেই সঠিক উত্তর ‘কোম’ অনুপস্থিত। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক আব্দুর রহমান বলেন, “এটি একটি আলোচিত স্থাপনা, ভুল করার সুযোগ নেই।”
বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা বলেন, এমন প্রশ্নের কারণে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন ফেলে দিয়েছেন, কেউ আবার ভুল অপশন দিয়েছেন—এতে নম্বর কাটা যাবে।
বরিশালের একজন পরীক্ষার্থী বলেন, “পিএসসি অনেক স্তরে প্রশ্ন যাচাই করে বলে জানি। এরপরও এমন ভুল হওয়া হতাশাজনক।”
ঢাকার খিলগাঁও কেন্দ্রে অংশ নেওয়া নাছরিন আক্তার বলেন, “ভুল প্রশ্নে সবাইকে নম্বর দিলেও তা অন্যদের প্রতি অবিচার হতে পারে।”
এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেমের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও কমিশনের এক নারী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রশ্ন মডারেশনসহ বহু ধাপে যাচাই হয়। এরপরও ভুল হলে তদন্ত হওয়া উচিত।”
৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের ২৫৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থী সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার। মোট ৩,৬৮৮টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে এ পরীক্ষা নেয় পিএসসি।


