এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়: ইংরেজি বিষয়ে ধস
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন গড় পাসের হার রেকর্ড হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফেল করেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে দুর্বলতারই বড় প্রমাণ।
পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অধিকাংশ শিক্ষাবোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬০ শতাংশের ঘরে সীমাবদ্ধ। শুধু ঢাকা ও বরিশাল বোর্ডে পাসের হার কিছুটা আশাব্যঞ্জক—৭৩.৬৬% এবং ৭৫.১৬%। অন্যদিকে যশোর বোর্ডে ইংরেজিতে ফেল করেছেন প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “ইংরেজি বিষয়ে খারাপ ফল পুরো সিস্টেমকে পিছিয়ে দিয়েছে। যশোর বোর্ডে ৪৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে। এতে বোর্ডভিত্তিক গড় ফলাফলে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।”
সবচেয়ে খারাপ: কুমিল্লা বোর্ড – গড় পাসের হার ৪৮.৮৬%
সবচেয়ে ভালো: ঢাকা বোর্ড – গড় পাসের হার ৬৪.৬২%
ইংরেজি বিষয়ে অন্যান্য বোর্ডের পাসের হার: রাজশাহী – ৬৮.৮২%, যশোর – ৫৪.৮২%, চট্টগ্রাম – ৬৩.৭৬%, সিলেট – ৬৪.৫৩%, দিনাজপুর – ৬৪.৪৭%, ময়মনসিংহ – ৬১.৯২%
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। আরও উদ্বেগজনক হলো—২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৫টি। ফলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
গড় ফলাফলে এবারও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে:
ছাত্রীর পাসের হার: প্রায় ৬৩%
ছাত্রের পাসের হার: প্রায় ৫৫%
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, করোনার পরবর্তী সময়ে শিক্ষার ঘাটতি, শিক্ষক সংকট, এবং ইংরেজি বিষয়ে মানসম্মত শিক্ষা না থাকাই এই ফলাফলের মূল কারণ। অনেকেই বলছেন, সময় এসেছে কারিকুলাম ও শিক্ষণ পদ্ধতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার।


