এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলোতে কার্যক্রম স্থগিত করা হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর—এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম।
এর আগে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানি জাহাজ চলাচলে মার্কিন অবরোধ আরোপের প্রেক্ষাপটে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরে সরাসরি যাওয়া-আসা না করলে অন্যান্য জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল পৌঁছেছে প্রায় ১০২.৩৭ ডলারে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) উঠেছে ১০৪.৫৬ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—এই দুটি পথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোতে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ড-এ জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে, এবং সরকার পেট্রোল-ডিজেলের ওপর কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি


