ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ইরানে ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম মিজান জানিয়েছে, হোসেইন পেদারান নামের ওই ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তি ও ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখার পর এ সাজা কার্যকর করা হয়।
মিজানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেদারান মধ্য ইরানের ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে মোসাদকে তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এসব তথ্যের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যও ছিল বলে দাবি করেছে ইরানের বিচার বিভাগ।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে পেদারান গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িয়েছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, পেদারানের বিরুদ্ধে মামলা চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে তার গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে ইরানের বিচার বিভাগের বাইরে স্বাধীন কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছিল। ওই সময় ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল ইরান।
পেদারানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো এমন এক সময়ে, যখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি রয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ বলছে, পেদারানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সাজা কার্যকর করা হয়েছে।


