আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৪ বেসামরিক

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৪ বেসামরিক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আফগানিস্তানের তিন প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাবুল। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির ১০টি স্থানে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের দিকে পাঠানো কয়েকটি ড্রোন বুধবার শনাক্ত করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সেগুলো ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এর পরদিন আফগানিস্তানে ড্রোন সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত ১০টি স্থানে ‘নির্ভুল’ বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানান পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী। তার দাবি, এসব হামলা নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে কোনো ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, বুধবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ড্রোন হামলা আফগান সরকার পরিচালনা করেনি।

তালেবানের দাবি, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিমান হামলা কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে চালানো হয়। এসব হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানায় কাবুল। একই সঙ্গে পাকিস্তানের হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেখানে আশ্রয় পাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটকে পাকিস্তানের নিজস্ব সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে পাকিস্তানে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলাও ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়। এর আগে প্রায় তিন মাস পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তান। দেশটির দাবি, ওই অভিযানে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। তবে আফগান তালেবান ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এর আগে মার্চে দুই দেশের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সে সময় কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার দাবি করেছিল আফগান তালেবান। তাদের অভিযোগ ছিল, হামলায় একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র আক্রান্ত হয়। পাকিস্তান অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামো।

সর্বশেষ হামলার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক তৎপরতায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। আফগানিস্তানের বেসামরিক হতাহতের দাবি এবং পাকিস্তানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বক্তব্য—দুই পক্ষের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।