ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েও বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুবার হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। প্রথম হামলায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলার মুখে পড়েন তিনি। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মহসেন হায়দারি।
চলতি সপ্তাহে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘আল আরাবি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান হায়দারি।
তার ভাষ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে হামলা চালানো হলে তিনি নিহত হন। ওই হামলায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাও নিহত হন। এ সময় আহত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি।
আহত অবস্থায় মোজতবাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তেহরানের অন্তত তিনটি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। হায়দারি জানান, মোজতবা তৃতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং বোমা হামলার পর তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ৮ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি জনসম্মুখে আসেননি এবং কোনো বক্তব্যও দেননি।
মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয় কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের কোমের সচিবালয়ে হামলায় আটজন নিহত এবং নির্বাচনসংক্রান্ত নথি ধ্বংস হওয়ার পর সদস্যদের একটি বিশেষ কক্ষে গোপনে বৈঠকে ডাকা হয়।
বৈঠকের স্থান ও উদ্দেশ্য আগে থেকে জানানো হয়নি। সদস্যরা পৃথক ব্যালটে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম লেখেন।
হায়দারি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়াত আলী খামেনির ছেলে মোজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা না করার সতর্কতা থাকলেও তিনিই প্রথম তার নাম প্রস্তাব করেন। তার দাবি, মোজতবার সুস্থতা, ধর্মীয় জ্ঞান, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা সম্পর্কে সদস্যরা নিশ্চিত হয়েছিলেন।
গোপন ভোটে ৫৯ ভোটের মধ্যে ৫০টি পেয়ে নির্বাচিত হন মোজতবা খামেনি। অপর প্রার্থী আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮ ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে মোজতবা খামেনি ইরানের কোনো সরাসরি সরকারি বা রাজনৈতিক পদে ছিলেন না। তবে তিনি তার বাবার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। হায়দারি তাকে ‘ম্যান অব দ্য শ্যাডো’ বা নেপথ্যের পরিচালক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনা রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, মোজতবা হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন।
তবে এসব দাবি নাকচ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ আছেন।


