বসুন্ধরায় বসে চাইনিজদের জুয়ার কারবার, মাসে পাচার ২৫০ কোটি

জাতীয়
বসুন্ধরায় বসে চাইনিজদের জুয়ার কারবার, মাসে পাচার ২৫০ কোটি
২ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণা ও জুয়া পরিচালনার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত চক্রটি অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ জুয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করত।

গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝর্ণা চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)।

রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাত প্রায় ৮টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালায় ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি ঝর্ণা চাকমা জিয়ানা ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি ভবনের একটি তলায় বসবাস করতেন এবং বাকি পাঁচটি তলা বিভিন্ন সময় বিদেশি নাগরিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হতো। ওই ভবনে বিদেশিরা হোটেলের মতো স্বল্প বা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযানের সময় ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা থেকে অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, প্রায় ৬ হাজার সিম কার্ড, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম-সংক্রান্ত সরঞ্জাম এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন। এ ছাড়া বিদেশি মদ ও ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চক্রটি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন প্রলোভনমূলক বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত।

এসব বার্তায় চাকরি, বিশেষ অফার কিংবা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগের কথা বলে বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করা হতো। কেউ ওই লিংকে প্রবেশ করলে তাকে নানা ধরনের অফার দেওয়া হতো এবং অর্থ পরিশোধে প্ররোচিত করা হতো।

পুলিশের দাবি, বিপুলসংখ্যক সিম ও গেটওয়ে ব্যবহার করে চক্রটি প্রতারণামূলক লেনদেন পরিচালনা করত। অভিযানে প্রায় ৬ হাজার সিমের পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ১০ থেকে ১২ হাজার সিম ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্লটও জব্দ করা হয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্রটি বিভিন্ন ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করত। ফলে তাদের কার্যক্রম ও অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত।

তার দাবি, এই চক্রকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আগামী এক মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার হওয়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ আয়ের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়ে মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।