দেশে কখনোই ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
দেশে কখনোই ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
৪ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশকে কোনো বিদেশি শক্তির তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মৌলিক প্রশ্নে দেশের মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ যেমন কখনো ভোলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও ভুলবে না।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ ও বিজয়ের দিন। একই সঙ্গে এটি জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ স্বৈরশাসনের অবসান থেকে মুক্তি পায়। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটি জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুন, অপহরণ, হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধ করতে দেশে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বহু মানুষকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা হয় এবং অনেকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, পোশাকশ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও শিশুসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলন দমনে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়েছিল বলেও বাণীতে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মুগ্ধসহ অসংখ্য তরুণ গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণায় পরিণত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হাজারো মানুষ নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই অঙ্গহানি ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হলেও সেই ভিন্নমত যেন শত্রুতা বা বিভাজনে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।