চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী
৯ আগস্ট ২০২৬

চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণের পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালীতে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে। এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীদেরও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মায়েরা পরিবারের দায়িত্ব পালনে আরও সক্ষম হবেন এবং নারীদের স্বাবলম্বিতা বাড়বে।

লবণ চাষিরাও পাবেন কৃষক কার্ড

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঁশখালীর লবণ চাষিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন।

লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

‘সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ’

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ। পরিকল্পিতভাবে এই সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব।

মাতারবাড়ী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য জায়গা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে কয়েকশ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রামে কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, শিল্প-কারখানা ছাড়া বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

পাঁচ বছরে ১০১ শয্যার হাসপাতাল

বাঁশখালীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্থানীয় হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।

‘এখন দেশ গড়ার সময়’

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উন্নতি করেছে। তাই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির কাছে ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। জনগণ সঙ্গে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রত্যেক মানুষ যেন কাজের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন—এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।