উপজেলা পর্যায়ে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে দেশে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনকে সহকারী সার্জন বা মেডিক্যাল অফিসার এবং আরও ৩০০ জনকে সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা দুই বেলা চালু রাখা, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা আরও কার্যকর করা এবং ইনডোরে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ২৮৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এর বাইরে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ও যুক্ত হবে।
দেশের ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে এসব পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩১ শয্যার ৪৮টি, ৫০ শয্যার ৩৭৩টি এবং ১০০ শয্যার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দীর্ঘদিনের। নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ কার্যকর হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক উপস্থিতি বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে। এতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কিছুটা কমতে পারে।
এর আগে করোনা মহামারির সময় ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুধু স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১৫ হাজার ৩৮৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ওই নিয়োগে ৬ হাজার সহকারী সার্জন বা সমমানের পদ এবং ৪ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ ছিল উল্লেখযোগ্য।
এদিকে, চলতি অর্থবছরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুধু স্বাস্থ্য খাতেই বিভিন্ন পদে ১৫ হাজার ৮২০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ সেই পরিকল্পনারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংকটও অনেকটা কমবে।


