ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনই এখন সরকারের প্রধান কাজ: তারেক রহমান

জাতীয়
ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনই এখন সরকারের প্রধান কাজ: তারেক রহমান
১০ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হওয়া দুর্বলতা কাটিয়ে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সময় এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় যে লক্ষ্য ও রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির মৌলিক উদ্দেশ্যের বড় কোনো পার্থক্য নেই। এসডিজির ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ নীতির সঙ্গে সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিরও সামঞ্জস্য রয়েছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এসডিজিকে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক পুনর্গঠনে এসডিজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে’ দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ধরে রাখতে ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’—এই তিন স্তরের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’ মডেল

এসডিজি স্থানীয়করণের পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব গ্রামে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

পাইলট প্রকল্প সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য গ্রামেও ‘এসডিজি ভিলেজ’ মডেল সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।