মির্জা ফখরুলের জয় শতভাগ নিশ্চিত: কর্নেল অলি

জাতীয়
মির্জা ফখরুলের জয় শতভাগ নিশ্চিত: কর্নেল অলি
১৩ আগস্ট ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় ‘শতভাগ নিশ্চিত’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।

বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অলি আহমদ বলেন, সংসদে ক্ষমতাসীন দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত বলেই তিনি মনে করেন। তবে জয়-পরাজয়ের হিসাব করে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ১১ দলীয় জোট দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক জোট। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের একজন প্রার্থী থাকা প্রয়োজন ছিল। প্রার্থী না দিলে এই জোটের নিজস্ব কোনো প্রার্থী নেই—এমন প্রশ্ন উঠতে পারত।

অলি আহমদের ভাষ্য, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান দেখানোর পাশাপাশি আমরা জনগণকে জানাতে চেয়েছি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ১১ দলের প্রার্থী রয়েছে।”

২০ আগস্ট হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকায় ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

ফলে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ কতটা রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

অলি আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বাস্তবতা বিবেচনায় বিএনপির প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হলেও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অবস্থান জানানোর উদ্যোগ।