গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ

জাতীয়
গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ
২৪ আগস্ট ২০২৬

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সভায় মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব ও মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো শক্তি যেন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা ছিল মানবাধিকার সুরক্ষা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ জন্য ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকারের অধিকারসংক্রান্ত নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে এসব অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ—এই তিনটি বিষয়কে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।