ছয় মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি

জাতীয়
ছয় মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি
২৪ আগস্ট ২০২৬

দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে গত ছয় মাসে ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সিপিডি জানায়, এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি এবং সময়মতো এলএনজি আমদানি করতে না পারায় দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। এতে বস্ত্র, স্টিল, কাগজ ও সিরামিকের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলমান সংকট দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গ্যাস সংকটে ইউরিয়া সার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। দেশে থাকা পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল সার কারখানা তার সক্ষমতার প্রায় ৯৬ শতাংশ উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি ব্যবহারের জন্য এখনো সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছে সিপিডি।

সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন পদক্ষেপের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংসদ সদস্যরা সরকারি গাড়ি ও প্লট না নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর বিষয়টিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নারী চালক ও স্টাফ দিয়ে পরিচালিত ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগকেও স্বাগত জানান তিনি।

তবে সরকারের বিভিন্ন পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আইন প্রয়োগে জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও দেশে মব সহিংসতা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৪৮ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৫৫ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাথাপিছু দেনা ৭ হাজার ডলার বেড়েছে, যা উদ্বেগের বিষয়।

তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছু সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিপিডি। কম আয় ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বস্তি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়।

এ ছাড়া সরকার কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, এটিকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।