গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে কারখানায় বেড়েছে ডিজেলের চাহিদা
দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় ডিজেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক কারখানা এখন ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে। এতে একদিকে ডিজেলের ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত থাকায় কিছু এলাকায় ‘নীরব ঘাটতি’ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ডিজেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেড়েছে। শিল্পাঞ্চলগুলোর অনেক পেট্রোল পাম্পে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় বেশি ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোথাও কোথাও গ্রাহকদের রেশনিং করে জ্বালানি দিতে হচ্ছে।
এর আগে শিল্পখাতের তথ্যেও ডিজেলের বাড়তি ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানা বাড়তি ডিজেল ও ফার্নেস তেল কিনছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শিল্প গ্রাহকদের কাছে ডিজেল বিক্রি ৭ হাজার ১২২ টন থেকে বেড়ে ১১ হাজার ৭২২ টনে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলো বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করলেও এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কোথাও কোথাও ডিজেলের ব্যয় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী সারাদেশে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ডিজেল নিয়ে সংকট আরও বাড়তে পারে।


