এলএনজিবাহী জাহাজ আসছে বুধবার: বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট
কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে স্থির রয়েছে। এলএনজিবাহী জাহাজ নির্ধারিত সময়ে না আসায় একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার লিমিটেড পরিচালিত টার্মিনাল থেকে ৫২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। অন্যদিকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে সরবরাহ মিলছিল ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।
ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে মোট ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে।
এলএনজি টার্মিনাল ও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাস মিলিয়ে বর্তমানে দেশে মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অবশ্য ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়।
সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না
মহেশখালীর ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি থাকায় টার্মিনাল দুটির সক্ষমতা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
গত দুই সপ্তাহ ধরে টার্মিনাল দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় এই সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একটি এলএনজিবাহী জাহাজ মহেশখালীতে পৌঁছানোর পর সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়। তবে পরবর্তী জাহাজ আসতে দেরি হওয়ায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলে দুটি টার্মিনালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না এবং দেশের চলমান গ্যাস সংকটও পুরোপুরি কাটছে না।
২ সেপ্টেম্বর আসতে পারে পরবর্তী এলএনজিবাহী জাহাজ
এলএনজি আমদানির দায়িত্বে থাকা আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, পরবর্তী এলএনজিবাহী জাহাজ ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে আসার কথা রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ২ সেপ্টেম্বর মহেশখালীর টার্মিনালে ভিড়তে পারে।
জাহাজটি না আসা পর্যন্ত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকবে। পরবর্তী চালান এসে পৌঁছালে টার্মিনালটির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


