‘ছয় মাস চলে গেলো, আর কয় মাস লাগবে?’

জাতীয়
‘ছয় মাস চলে গেলো, আর কয় মাস লাগবে?’
৩০ আগস্ট ২০২৬

শিক্ষিত বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। এ বিষয়ে সরকার আর কত সময় নেবে, ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে তা জানতে চান তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব ও সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি।

মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তার দাবি, সহজীকরণের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকসহ চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও সরকারি উন্নয়নকাজে অংশ নিয়ে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। তবে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা ও ক্রয়কারী দপ্তর বর্তমানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত মূল্যের কাজে এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) যেকোনো মূল্যের কাজে প্রয়োগ করা হয়।

ই-টেন্ডার সহজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সচেতন রয়েছে এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী যথাসময়ে তা অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরে সম্পূরক প্রশ্নে মোশারফ হোসেন বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করা হলে দেশের সাধারণ মানুষও উন্নয়নকাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই আইন, সংবিধান ও নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের মতো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না; দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বিদ্যমান সিন্ডিকেট ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কয়েক দফা বৈঠকের পর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরকারি টেন্ডার ব্যবস্থার সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হবে।