তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়
লোডশেডিং কমানো এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পরিশোধে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা পরিশোধে অর্থ বিভাগ দুই কিস্তিতে এ অর্থ দেবে। বর্তমানে ফার্নেস অয়েলসহ জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয় করছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হলে এ ব্যয় আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, সরকার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে লোডশেডিং কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এতে শিল্প খাতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।
বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৬ হাজার কোটি টাকার বড় একটি অংশ বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যয় করা হবে।
বকেয়া পরিশোধ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি কেনার সক্ষমতা বাড়বে। ফলে বর্তমানে বন্ধ থাকা বা কম সক্ষমতায় পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে আরও বেশি ক্ষমতায় চালানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে গ্যাস সংকটে কমে যাওয়া শিল্প উৎপাদন আবারও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


