বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ

জাতীয়
বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ
৩১ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা-পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তিটি নবায়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পানি, বন্দর ও শিল্প খাতের স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে রাজ্যের পানি ও শিল্প খাতে গঙ্গার পানির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, নতুন কোনো চুক্তি হলে তাতে পশ্চিমবঙ্গের ন্যায্য পানির চাহিদা পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার।

রাজ্যটির দাবি, হুগলি নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নাব্যতা সংকট বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে নৌচলাচল ও বন্দর কার্যক্রমেও। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজের উজান ও ভাটিতে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়মিত নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত পলি জমার প্রভাব শুধু নদী ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই; নৌচলাচল এবং বন্দরের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন চুক্তির আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পলি জমার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বারবার বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। একই কারণে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে জাহাজ চলাচলেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া এবং আর্সেনিক দূষণের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছে পশ্চিমবঙ্গ।

রাজ্য সরকারের মতে, গঙ্গার পানির ওপর তাদের নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। পরিশোধনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ, সেচ এবং শিল্পকারখানার বিভিন্ন চাহিদা পূরণে নদটির পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে নতুন পানিবণ্টন চুক্তিতে বাড়তি পানির চাহিদার পাশাপাশি পরিবেশগত বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গার পানি সেচের পাশাপাশি পরিশোধনের মাধ্যমে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিল্প খাতেও এর একটি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন চুক্তিতে নদীভাঙন, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং ভাটির অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।