দেশে খাদ্যশস্যের মজুত পর্যাপ্ত, ঘাটতির আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। ছবি: বাসস
দেশে বর্তমানে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে নির্ধারিত নিরাপত্তা মজুদের তুলনায় বেশি খাদ্যশস্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল।
তিনি জানান, গত ৬ আগস্ট খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় স্বাভাবিক সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং সংকটকালীন মজুদ ১৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ হিসাবে সরকারি গুদামে থাকা খাদ্যশস্যের মজুদ নিরাপত্তা মজুদের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। তাই দেশে চাল ও গম বা আটার ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
চালের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘ফুড আউটলুক’ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন।
মোট সরবরাহের মধ্যে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন চাল এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে। আর আমদানি করা হয়েছে ১২ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।
একই অর্থবছরে দেশে গমের চাহিদা ছিল ৮২ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ হয়েছে ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন এবং আমদানির পরিমাণ ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন।
চলতি অর্থবছরে চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস
খাদ্যমন্ত্রী জানান, এফএওর ‘ফুড আউটলুক’ অনুযায়ী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ৪ কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে। একই সময়ে গমের চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৮৩ লাখ মেট্রিক টনে।
তিনি বলেন, চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি খাত উভয়েই চাল ও গম আমদানি করে থাকে।


