সড়ক দুর্ঘটনায় আগস্টে প্রা’ণ গেল ৪৮১ জনের

জাতীয়
সড়ক দুর্ঘটনায় আগস্টে প্রা’ণ গেল ৪৮১ জনের
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগস্ট মাসে দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮১ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৬৪ জন। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড় প্রাণহানির হার বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ জন নিহত হয়েছিলেন। আগস্টে দৈনিক গড় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫১ জনে। আগস্টে নিহত ৪৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু রয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি। আগস্টে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের ৬৭ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, আগস্টে সবচেয়ে বেশি ২১৭টি দুর্ঘটনা বা ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৬২টি এবং শহরের সড়কে ৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং মুখোমুখি সংঘর্ষকে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ছিল ৩৮ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়ায়।

রাজধানী ঢাকায় আগস্টে ৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি আগস্টে দেশে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন এবং ৩৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন।

সড়কে প্রাণহানি কমাতে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ চালক তৈরি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।