গিরগিটি-অক্টোপাসসহ যেসব প্রাণী রং বদলায়, কীভাবে ও কেন?

জাতীয়
গিরগিটি-অক্টোপাসসহ যেসব প্রাণী রং বদলায়, কীভাবে ও কেন?
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতিতে টিকে থাকতে প্রাণীদের রয়েছে নানা ধরনের কৌশল। এর মধ্যে শরীরের রং পরিবর্তনের ক্ষমতা অন্যতম বিস্ময়কর। পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারির চোখ এড়ানো, শিকার ধরা, সঙ্গী আকর্ষণ কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীকে সতর্ক করতে প্রাণিজগতের অনেক প্রজাতি নিজেদের শরীরের রং বদলাতে পারে।

কেউ ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে রং পরিবর্তন করে, আবার কোনো কোনো প্রাণী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শরীরের রং পাল্টে ফেলতে পারে।

ঋতুর সঙ্গে রং বদলায় যারা

যেসব প্রাণী এমন অঞ্চলে বাস করে, যেখানে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবেশের রংও ব্যাপকভাবে বদলে যায়, তাদের জন্য শরীরের রং পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন। গ্রীষ্মের সবুজ-বাদামি পরিবেশ থেকে শীতের তুষারাবৃত প্রকৃতিতে পরিবর্তনের সঙ্গে তারাও নিজেদের রং বদলে নেয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রক পার্টমিগান। ইউরোপ ও এশিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকার উত্তরপ্রান্তে দেখা যায় এই পাখিকে। গ্রীষ্মে এর পালকের রং বাদামি থাকে। শরৎ এলে পুরোনো পালক ঝরে গিয়ে নতুন সাদা পালক গজায়। শীতকালে পুরো শরীর তুষারের মতো সাদা হয়ে যায়।

তুষারাবৃত আর্কটিক পরিবেশে এই সাদা পালক তাকে শিকারিদের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

স্টোটের রংও বদলে যায়

বেজির মতো দেখতে স্টোট নামের স্তন্যপায়ী প্রাণীও ঋতুর সঙ্গে শরীরের রং পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মে এর লোম বাদামি থাকলেও শীতকালে তা সাদা হয়ে যায়।

স্টোট শিকারি প্রাণী হওয়ায় এই পরিবর্তন শুধু আত্মগোপনে সহায়তা করে না। তুষারের মধ্যে সাদা লোমের কারণে নিজেকে আড়াল করে ছোট স্তন্যপায়ী ও পাখি শিকার করতেও সুবিধা হয়।

উত্তর গোলার্ধে ২০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী গ্রীষ্মের বাদামি রং থেকে শীতের সাদা রঙে পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, শরৎকালে দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসা এবং বসন্তে আবার দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে এসব প্রাণীর শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই হরমোনই লোম ও পালক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

কয়েক সেকেন্ডেই রং বদলায় গিরগিটি

ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু প্রাণী খুব দ্রুত শরীরের রং পরিবর্তন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গিরগিটি অন্যতম পরিচিত উদাহরণ।

বিশেষ ধরনের ত্বককোষের সাহায্যে গিরগিটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে শরীরের রং পরিবর্তন করতে পারে। এসব কোষের একটি হলো ডার্মাল ক্রোমাটোফোর, যার মধ্যে রঞ্জক পদার্থ থাকে।

জীববিজ্ঞানী রাসেল লিগনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব কোষকে এমন এক ধরনের পথ হিসেবে ভাবা যায়, যার মধ্য দিয়ে রঞ্জক পদার্থের অবস্থান পরিবর্তিত হয়। রঞ্জকের অবস্থান বদলের ফলে ত্বকের ওপর ভিন্ন রং বা রঙের বিন্যাস দেখা যায়।

প্রকৃতিতে প্রাণীদের এই রং পরিবর্তনের ক্ষমতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং আত্মরক্ষা, শিকার ও প্রজননের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।