স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক? লক্ষণেই বুঝে নিন পার্থক্য
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক—দুটিই প্রাণঘাতী জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে এ দুটি রোগের লক্ষণ এক নয়। প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জটিলতার ঝুঁকিও অনেক কমানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ
হার্টে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সময় সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
- বুকের মাঝখানে বা বাম পাশে তীব্র চাপ, ভারীভাব বা ব্যথা
- ব্যথা বাম হাত, কাঁধ, পিঠ বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- ঠান্ডা ঘাম হওয়া
- বমি বমি ভাব বা বমি
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি
- ব্যথা ৫ থেকে ১৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হওয়া
- বিশ্রাম নিলেও ব্যথা না কমা
স্ট্রোকের লক্ষণ
মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ বা রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো—
- মুখের এক পাশ হঠাৎ বেঁকে যাওয়া
- এক হাত বা এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে পড়া
- কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া
- হঠাৎ এক বা উভয় চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
- ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা
- কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা
জরুরি করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রথম ৩ থেকে ৪.৫ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন টাইম’ ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে স্থায়ী ক্ষতি ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তাই নিজের বা আশপাশের কারও মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসাই এ ধরনের দুই প্রাণঘাতী অবস্থায় রোগীর জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


