চাঁদা নিয়ে কথা বলায় নিজ এলাকায় তোপের মুখে ব্যারিস্টার ফুয়াদ

রাজনীতি
চাঁদা নিয়ে কথা বলায় নিজ এলাকায় তোপের মুখে ব্যারিস্টার ফুয়াদ
নিউজ ডেস্ক
৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর বক্তব্যের পরপরই অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার দুপুর ১২টার দিকে মীরগঞ্জ সেতুর উদ্বোধনী কর্মসূচি শেষে। অনুষ্ঠানে সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিথিরা চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ফুয়াদ বলেন—
“সেতু নির্মাণের কাজ পেতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানীয়রা চাঁদা দাবি করেছে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই বক্তব্য শোনার পর উপস্থিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। তারা ফুয়াদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ফুয়াদকে তাঁর দলীয় নেতারা দ্রুত সরিয়ে নেন।

পরে পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আল আমিন অভিযোগ করেন—
“ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ফুয়াদ নেতা–কর্মীদের অপমান করেছেন। ক্ষমা না চাইলে তাঁকে বাবুগঞ্জ ও মুলাদীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফুয়াদ বলেন, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন—
“কে বালু দেবে, কে পাথর দেবে—এসব বিষয়ে ঠিকাদারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কাজ না দিলে কাজ করতে দেবে না—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দুদক এবং প্রশাসনকে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন—
“এখনো সেতুর কাজ শুরুই হয়নি, এমনকি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিও হয়নি। এ অবস্থায় চাঁদা দাবি করা—এ কথা সম্পূর্ণ অবান্তর।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফুয়াদ এলাকায় প্রচার করছেন—সব উন্নয়ন নাকি তাঁর উদ্যোগে হচ্ছে।
“আমরা দলীয়ভাবে এসব মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাইনি, কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে এভাবে অপপ্রচার করায় তরুণ কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে,”—যোগ করেন তিনি।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম জানান—
“অনুষ্ঠান শেষে দুই পক্ষের মাঝে কথা–কাটাকাটি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”