হাদির অবস্থা অপরিবর্তিত, উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা

রাজনীতি
হাদির অবস্থা অপরিবর্তিত, উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা
নিউজ ডেস্ক
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি গুরুতর অবস্থায় আছেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সাংবাদিকদের জানান, ওসমান হাদি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসকরা তাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পর্যবেক্ষণের সময় সোমবার রাতে শেষ হবে।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “ওসমান হাদি এখনও ডিপ কোমায় রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি, তবে কিছু ইন্টারনাল রেসপন্স দেখা যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ওসমান হাদিকে তার পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তবে তা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ওসমান হাদিকে শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, গুলি তার কানের ডান পাশ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রাথমিক অস্ত্রোপচার নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা সম্পন্ন করেছেন। পরে সন্ধ্যায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়।

এখন হাদি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন এবং তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

হাদির চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালের সামনে অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। সিলেট থেকে আসা প্রবাসী সোহেল আহমেদ বলেন, “ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী মানুষ। দেশের জন্য যারা ভালো চায় না, তারা তাকে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। এটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। আমরা তার সুস্থতার জন্য দোয়া করি।”

ওসমান হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে সরব হন। কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা–৮ আসনে প্রচার চালাচ্ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরপরই তাকে গুলি করা হয়।

ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকে তার সমর্থকরা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গেছে, হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান চিহ্নিত। তথ্য দেয়ার জন্য সরকার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করে এর মালিককে আটক করা হয়েছে।