চরমোনাই পীর ও মামুনুলের দল থাকছে না জামায়াত জোটে!

রাজনীতি
চরমোনাই পীর ও মামুনুলের দল থাকছে না জামায়াত জোটে!
নিউজ ডেস্ক
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ আট ইসলামী দলের মধ্যে আসন সমঝোতা প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে এসে জটিল আকার ধারণ করেছে। দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো একক প্রার্থী নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট লিয়াজোঁ কমিটি।

সূত্র জানায়, চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক আসনের দাবি জানানোয় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে বিকল্প জোট কিংবা আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে দল দুটি।

রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, এ ধরনের অবস্থানের পেছনে কোনো বিশেষ মহলের আশ্বাস কাজ করতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে চলমান এই জটিলতার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে নতুন দল এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে দলটি অন্তত ৫০টি আসনের প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে। এনসিপি যুক্ত হলে অন্যান্য দলকে আরও ছাড় দিতে হবে, যা সমঝোতা প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।

দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি আসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্যোগ চালিয়ে আসছে। ইসলামী দলগুলোর ভোট একত্রিত করে সরকার গঠনের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি জানিয়েছে, আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাচ্ছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নিজে অন্তত ২০০ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী। ফলে সব পক্ষের দাবি মেলাতে গিয়ে বড় ধরনের সমন্বয় সংকট তৈরি হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আসন কারও একার নয়। সবাই ছাড় দেবে, সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাবে। আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এনসিপিসহ আরও একাধিক দল এই সমঝোতায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করছে।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো জোট হয়নি, তাই পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। সবকিছুই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক শীর্ষ নেতা জানান, তারা ঐক্য বজায় রাখতে চান, তবে তা হতে হবে সম্মানজনক আসন বণ্টনের ভিত্তিতে। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, “কিছু জটিলতা থাকলেও ঐক্য ভাঙার আশঙ্কা দেখছি না। আলোচনা চলমান, সময় এখনও আছে।”

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসলামী দলগুলোর এই নির্বাচনি সমঝোতা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যার ফলাফল আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক চিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।