ভোটার এলাকা বদলে আসিফ-নাসীরুদ্দীন, নতুন সমীকরণে এনসিপি

রাজনীতি
ভোটার এলাকা বদলে আসিফ-নাসীরুদ্দীন, নতুন সমীকরণে এনসিপি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার দলীয় কৌশলের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির একাধিক নেতা।

আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভোটার ছিলেন। এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ডিএনসিসির উত্তরা এলাকার ভোটার থেকে ডিএসসিসির শাহবাগ এলাকার ভোটার হয়েছেন।

এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ এক নেতা জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটিতে দলীয় কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আসিফ মাহমুদকে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে তাকে ডিএসসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ডিএনসিসিতে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে আগে ঘোষিত এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের প্রার্থিতা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দ্বিতীয়বারের মতো আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন। এর আগে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গ্রামের বাড়ির ভোটার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন।

সে সময় আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, ঢাকার কোনো আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। পরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানায় তার দল।

দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন, প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন সাদিক কায়েম

এনসিপির ওই নেতা জানান, ডিএসসিসির মেয়র পদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি যে এলাকার ভোটার, সেটি ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন নাসীরুদ্দীন। তার আগে ঢাকা-১৮ আসন থেকেও তার প্রার্থী হওয়ার আলোচনা ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরিফুল ইসলাম আদিব।

অন্যদিকে ডিএসসিসির মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামী সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এনসিপির প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হলে দক্ষিণ সিটিতে দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

এনসিপির ওই নেতার ভাষ্য, দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীনকে প্রার্থী করার অন্যতম কারণ হলো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় অবস্থান শক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত সাদিক কায়েম ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকার দুই সিটিতে ছাড় নয়

এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। শেষ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক ঐক্য হলেও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দিতে চায় না তারা।

রাজধানীতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটিতে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এনসিপি।