ধূমপানের পর নামাজ আদায় করলে কি তা কবুল হবে?
ধূমপান ও মদপান ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এসব বিষয়ে সমাজে ছড়ানো কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে সম্প্রতি আলেমদের ব্যাখ্যা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। বিশেষত, সিগারেট খেলে শরীর নাপাক হয়ে যায় কিংবা মদ পান করলে ৪০ দিন নামাজ কবুল হয় না—এমন বিভ্রান্তিকর ধারণা সম্পর্কে বিশুদ্ধ ইসলামী ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন তারা।
ধর্মীয় সূত্র মতে, ধূমপান ইসলামে অপচয় ও নিজের ক্ষতির কাজ হিসেবে দেখা হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার আয়াতে বলা হয়েছে—
“তোমরা নিজের হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৯৫)
তবে ধূমপান করলে শরীর নাপাক হয়ে যায়, বা ৪০ দিন নামাজ গ্রহণ হয় না—এমন কোনো শরিয়তসম্মত প্রমাণ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। ধূমপান অজু নষ্ট করে না এবং ইবাদত কবুলের অন্তরায় নয়। তবে মুখে দুর্গন্ধ থেকে যায় বলে নামাজে দাঁড়ানো মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেন—
“যে পেঁয়াজ, রসুন বা তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের ধারে না আসে, কারণ ফেরেশতারাও মানুষের মতো কষ্ট পায়।” (সহিহ মুসলিম)
এমন ব্যাখ্যায় ইসলামী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নামাজের আগে সিগারেট খাওয়া অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করা বা জামাতে দাঁড়ানো অন্যদের কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই মুখের দুর্গন্ধ দূর করে নামাজে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মদপানের বিষয়ে একটি হাদিসে এসেছে—
“কেউ যদি মদ পান করে, তার ৪০ দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে নামাজ কবুল হয় না।” (সুনানে তিরমিজি)
তবে এ হাদিসের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে সতর্ক করা। ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মদপান করলে শরীর নাপাক হয় না এবং নামাজ পড়া নিষিদ্ধ হয়ে যায় না। বরং নামাজ পড়া বাধ্যতামূলকই থাকে। শর্ত হচ্ছে—আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা চাওয়া।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, গোনাহের কারণে ইবাদত ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং ইবাদতের মধ্য দিয়েই গোনাহ থেকে ফিরে আসার পথ খুলে যায়।


