অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার শাস্তি
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা। কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ দখল, আত্মসাৎ বা জোরপূর্বক জমি অধিকার করা কঠোর গুনাহ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, হকদারদের হক তাদের কাছে পৌঁছে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার করবে, তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে করবে।”
(সূরা নিসা: ৫৮)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
“তোমরা একে অন্যের সম্পদ অবৈধভাবে ভক্ষণ করো না এবং মানুষের সম্পদের কিছু অংশ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার জন্য বিচারকের কাছে উপস্থাপন করো না।”
(সূরা বাকারা: ১৮৮)
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
“যে ব্যক্তি কারো জমির সামান্য পরিমাণ জুলুম করে দখল করবে, কেয়ামতের দিন সেই জমি সাত স্তর জমিনসহ তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”
(সহিহ বুখারি)
এ শাস্তি শুধু বলপ্রয়োগ বা সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলের ক্ষেত্রে নয়—মিথ্যা মামলা, সাজানো দলিল, ভুয়া সাক্ষ্য দিয়েও যদি কেউ অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করে, তাহলেও ইসলামী দৃষ্টিতে সেটি হারাম এবং তার জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা।
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন,
“তোমরা আমার কাছে ফয়সালার জন্য আসো। আমি একজন মানুষ। কেউ হয়ত নিজ যুক্তি দিয়ে আমাকে প্রভাবিত করে ফয়সালা নিজের পক্ষে নিয়ে নেয়। কিন্তু যদি সে অন্যের হক আদায় করে নেয়, সেটা আগুনের টুকরো ছাড়া কিছুই নয়।”
(সহিহ মুসলিম)
অন্যত্র এসেছে,
“যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যায়ের পক্ষে তদবির করে বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন।”
(সুনানে আবু দাউদ)
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তির সম্পদ যেমন নিরাপদ, তেমনি মিথ্যা সাক্ষ্য বা অন্যায় দাবি করে সেই সম্পদ দখল করাও মারাত্মক গোনাহ। সমাজে শান্তি ও ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষায় মুসলিমদের উচিত সততা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা, এবং সম্পদের প্রতি অন্যের অধিকারকে শ্রদ্ধা করা।


