হাতের নখ বড় রাখা নিয়ে যা বলছে ইসলাম

ধর্ম
হাতের নখ বড় রাখা নিয়ে যা বলছে ইসলাম

হাতের নখ কি বড় রাখা যাবে, কী বলছে ইসলাম

নিউজ ডেস্ক
২২ জুলাই ২০২৫

বর্তমান সময়ের ফ্যাশনপ্রিয় প্রজন্মের একটি প্রচলিত স্টাইল হলো নখ বড় রাখা। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে ধরা হয়। কেউ কেউ নখে নানা রঙ, নকশা ও নেলআর্ট করে নিজেদের সাজিয়ে তোলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে এই প্রবণতা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

ইসলাম ধর্মে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও শারীরিক পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এ বিষয়ে নখ কাটা একটি সুন্নাত ও ফিতরাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“পাঁচটি কাজ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির (ফিতরাত) অন্তর্ভুক্ত: খৎনা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার, নখ কাটা, বগলের লোম উঠানো এবং গোঁফ ছোট করা।”
– (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৯২)

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে—

“নখ কাটা, গোঁফ ছোট করা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার জন্য ৪০ দিনের বেশি দেরি করা উচিত নয়।”
– (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮)

বড় নখে ময়লা জমে থাকা অজুর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, নখের নিচে ময়লা জমে গেলে এবং ওজুর সময় সেখানে পানি না পৌঁছালে সেই অজু অকার্যকর বলে গণ্য হতে পারে।

ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন:

“নখ কাটা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নাত।”
 – (আল-মাজমুউ, ১/৩৩৯)

হাদিসে আছে, কেউ কেউ নবীজির কাছে আসমানের খবর জানতে চাইত, অথচ তার নখ ছিল পাখির মতো বড়—যেখানে ময়লা জমে থাকত।

“তোমরা কেউ কেউ আসমানের খবর জানতে চাও, অথচ তোমার নখ পাখির নখের মতো!”
– (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৩০১১)

আজকাল অনেকেই নিজেদের পছন্দ বা ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে ধর্মীয় নির্দেশনা ভুলে যাচ্ছেন। কিন্তু ইসলাম বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, পরিচ্ছন্নতাই ঈমানের অঙ্গ। নখ ছোট রাখা শুধু শরীরিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি একজন মুসলিমের পরিচ্ছন্ন চরিত্র ও দায়িত্বশীলতার প্রতীক।