বিশ্বে মুসলিম দেশ কতটি?
বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মুসলমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও ৫৭টি রাষ্ট্রকে মূলত “মুসলিম দেশ” হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC)। এসব দেশের বৈশিষ্ট্য, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও একটি সাধারণ সূত্রে গাঁথা—ইসলাম ও মুসলিম জনগণের প্রতিনিধিত্ব।
মুসলিম রাষ্ট্র মানে কী?
মুসলিম রাষ্ট্র বলতে বোঝায় এমন দেশ যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সংবিধানে বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ইসলাম কোনো না কোনোভাবে অন্তর্ভুক্ত। কেউ রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করেছে, আবার কেউ নিরপেক্ষ থেকেও মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেনে রাষ্ট্র চালায়।
অঞ্চলভিত্তিক মুসলিম রাষ্ট্র
🔹 মধ্যপ্রাচ্য ও আরব উপদ্বীপ:
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, ইয়েমেনসহ আরও কয়েকটি দেশ এখানে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু।
🔹 উত্তর ও সাব-সাহারান আফ্রিকা:
মিশর, সুদান, আলজেরিয়া, মরক্কো থেকে শুরু করে মালি, নাইজার, চাদ, সেনেগাল ও গাম্বিয়ার মতো দেশগুলোর রয়েছে গৌরবময় ইসলামী ঐতিহ্য।
🔹 দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া:
পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরান, আফগানিস্তান ছাড়াও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র যেমন কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান উল্লেখযোগ্য।
🔹 দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপ:
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, মালদ্বীপের পাশাপাশি তুরস্ক, আলবেনিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, আজারবাইজান—ইউরোপের মুসলিম চেতনার পরিচায়ক।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত OIC বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংস্থা। এই সংস্থা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের আধার হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য, কৃষিপ্রধান আফ্রিকান মুসলিম দেশ ও জনশক্তিনির্ভর দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম রাষ্ট্রগুলো বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার জন্য এই রাষ্ট্রগুলোর রয়েছে আলাদা দায়বদ্ধতা।


