ইহরামের কাপড় কাফন হিসেবে ব্যবহারের ফজিলত আছে কি?
কেউ যদি নিজের হজ বা ওমরাহ পালনের সময় ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় কাফন হিসেবে ব্যবহার করতে চান, ইসলামically তাতে কোনো বাধা নেই। তবে এই কাপড় ব্যবহারে শরিয়তসম্মত কোনো বিশেষ ফজিলত আছে—এমন বিশ্বাসকে ভিত্তি দেওয়া যাবে না, কারণ নবী করিম (সা.) থেকে এর কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায়নি।
ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, কাফনের জন্য ইহরামের কাপড় ব্যবহারে শরিয়ত কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তবে ইহরামের কাপড়কে কাফনের কাপড় হিসেবে বিশেষভাবে ফজিলতময় মনে করা এবং এ নিয়ে অতিরঞ্জিত আশা বা ধারণা পোষণ করা বিচারযোগ্য নয়।
হাদিস শরিফে উত্তম কাফনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ থাকলেও কাফন নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এজন্য ইহরামের কাপড়টি যদি কাফন হিসেবে ব্যবহারের নিয়ত থাকে, তবে তা যেন অতি সাধারণ বা অতিশয় দামী না হয়, বরং মধ্যম মানের হয়—এমন পরামর্শ দেন ইসলামিক স্কলাররা।
ইসলামী বিধানে, কোনো মুসলমান মারা গেলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা মুসলিম সমাজের ওপর ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ কেউ তা পালন করলে অন্যদের দায়িত্ব মাফ হয়ে যায়; কিন্তু কেউ না করলে সমগ্র সমাজ গুনাহগার হয়।
মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন বা ওয়ারিস থাকলে এ দায়িত্ব প্রথমত তাদের। মৃতের সম্পদ থাকলে কাফনের খরচ সেখান থেকেই বহন করতে হবে। তবে সম্পদ বা অভিভাবক না থাকলে তার দাফনের দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছেন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, পুরুষের জন্য সাধারণত তিনটি কাপড়—ইজার, জামা ও চাদর ব্যবহৃত হয়। নারীদের কাফনে পাঁচটি কাপড় লাগে—ইজার, জামা, চাদর, সিনাবন্দ (বুক ঢাকার কাপড়) ও মাথাবন্ধ।
সুগন্ধি প্রয়োগ, চুলের সজ্জা ও কাপড়ের সঠিক পরিধানসহ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা নারী ও পুরুষের কাফন দেয়ার ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হয়।


