যে দুটি অঙ্গের হেফাজতে জান্নাতের সুসংবাদ
যে ২ কাজের জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে
জান্নাত লাভ প্রতিটি মুমিনের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। ইসলাম মানুষকে এমন কিছু আমলের শিক্ষা দিয়েছে, যা অনুসরণ করলে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের ওপর।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জান্নাতকে শান্তি, সুখ ও অনন্ত পুরস্কারের আবাসস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে থাকবে মানুষের মনোবাসনা পূরণের সব উপকরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “জান্নাতে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমাদের মন চাইবে এবং যা তোমরা দাবি করবে।” (সুরা ফুসসিলাত: ৩১)

জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সা.) আনুগত্য অপরিহার্য। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হবে।” (সুরা আল-ফাতহ: ১৭)
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে দুই অঙ্গের হেফাজতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই রানের মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) হেফাজতের নিশ্চয়তা আমাকে দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।” — (Sahih al-Bukhari)
আলেমদের মতে, জিহ্বার হেফাজত বলতে মিথ্যা, গিবত, অপবাদ ও অশ্লীল কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা বোঝায়। আর লজ্জাস্থানের হেফাজত বলতে অবৈধ সম্পর্ক ও সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে নিজেকে সংযত রাখা বোঝায়।
তারা বলেন, মানুষের অধিকাংশ গুনাহ জিহ্বা ও প্রবৃত্তির কারণে সংঘটিত হয়। তাই এই দুটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে একজন মুমিনের চরিত্র সুন্দর হয় এবং জান্নাত লাভের আশা আরও দৃঢ় হয়।
ইসলামি শিক্ষায় জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত শুধু ব্যক্তিগত পবিত্রতার বিষয় নয়; বরং এটি সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠারও অন্যতম ভিত্তি।

