ইতিহাসে প্রথমবার বিদেশি মুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় স্থায়ী সম্পত্তির মালিকানার সুযোগ
সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশি মুসলিম নাগরিকদের জন্য পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত এলাকায় স্থায়ী সম্পত্তির (ফ্রিহোল্ড) মালিকানা অর্জনের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। সৌদি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হয়েছে, যা দেশটির আবাসন খাতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ২০০০ সালের আইন অনুযায়ী, অ-সৌদি নাগরিকদের জন্য মক্কা ও মদিনায় স্থায়ীভাবে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা নিষিদ্ধ ছিল। ফলে বিদেশি মুসলিমরা এসব শহরে কেবল ভাড়া বাসায় থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সেই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী মুসলিম এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলিম নাগরিকরা নির্ধারিত বিশেষ এলাকায় ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী মালিক হতে পারবেন। তবে এই সুবিধা পুরো মক্কা ও মদিনাজুড়ে নয়; শুধুমাত্র সৌদি রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (REGA) নির্ধারিত প্রকল্প ও জোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, অমুসলিমদের জন্য মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ ও সম্পত্তি কেনার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল থাকবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ সুযোগও ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে মক্কায় নির্দিষ্ট মূল্যের সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি নগদ অর্থে ক্রয় করলে ক্রেতা সৌদির ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি’ সুবিধার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
আগ্রহীদের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদিতে বসবাসরত প্রবাসীরা তাদের ইকামা নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরে থাকা আবেদনকারীদের আগে নিজ দেশের সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগ সৌদির আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের নাগরিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা পবিত্র দুই নগরীতে নিজস্ব আবাসনের মালিক হওয়ার সুযোগ পাবেন।


