বেঙ্গালুরু ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে পারছে না আরসিবি: তদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

খেলাধুলা
বেঙ্গালুরু ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে পারছে না আরসিবি: তদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
১৮ জুলাই ২০২৫

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-কে দায়ী করেছে কর্ণাটক রাজ্য সরকার। সম্প্রতি জনসমক্ষে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, সেই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি দর্শক।

এই মিছিল ছিল ৪ জুন আইপিএল ট্রফি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত। ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, আয়োজকরা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই জনসমাগম ঘটিয়েছিলেন, যার জেরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। তবে সরকার প্রথমে এটি গোপন রাখতে চাইলেও, হাইকোর্টের নির্দেশে তা প্রকাশে বাধ্য হয়। ক্রিকেটবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো সর্বপ্রথম রিপোর্টের অনুলিপি হাতে পায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

“আরসিবি ম্যানেজমেন্ট, তাদের ইভেন্ট পার্টনার ডিএনএ নেটওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড এবং কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (KSCA)— তিনটি পক্ষ মিলে পুলিশ অনুমতি বা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই এই বিজয় মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।”

৩ জুন সন্ধ্যায় আয়োজকরা একটি নোটিশ জমা দিলেও, পুলিশ তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— পরিকল্পনা ছিল অপর্যাপ্ত, সম্ভাব্য জনসমাগম বা নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমতি না পেয়েও ৪ জুন সকাল ৭:০১ মিনিটে আরসিবির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিরাট কোহলির একটি ভিডিও বার্তা মিছিলের আহ্বানে ভাইরাল হয়ে যায়, যা ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

“২০০৯ সালের বেঙ্গালুরু সিটি অ্যাসেম্বলি ও প্রসেশন আইন পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে আয়োজকরা”— বলেছে তদন্ত কমিটি।

সরকারি তদন্তের পাশাপাশি সিআইডি (CID)-ও বিষয়টি নিয়ে পৃথক তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত। আরসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ডিএনএ নেটওয়ার্কসের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে চূড়ান্ত রায় কিংবা দায় নির্ধারণে আদালতের সিদ্ধান্ত কবে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।