ছক্কা হাঁকাতে বিদেশি কোচ, মানসিক দৃঢ়তায় মনোযোগ—নতুন রূপে টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আধিপত্য চাইলে শুধু টেকনিক নয়, লাগবে আত্মবিশ্বাস ও মারমুখী মনোভাব। সেই লক্ষ্যেই বিসিবির নতুন পরিকল্পনায় থাকছে পাওয়ার হিটিং স্পেশালিস্ট ও স্পোর্টস সাইকোলজিস্টের সম্পৃক্ততা।
আগস্টে শুরু হওয়া এশিয়া কাপ ক্যাম্পেই জাতীয় দলের ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করবেন ইংলিশ কোচ জুলিয়ান উড। তার মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশি ব্যাটারদের ছক্কা মারার দক্ষতা ও শক্তি ব্যবহারে পারদর্শী করে তোলা।
“বাংলাদেশে প্রতিভার অভাব নেই, দরকার শুধু সঠিকভাবে শক্তির ব্যবহার শেখানো,” — বলেছেন উড, যিনি এর আগেও বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে কাজ করেছেন।
জুলিয়ান উডের অধীনে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বিশেষ ক্যাম্প। এশিয়া কাপকে সামনে রেখে এতে থাকবে সীমিত ওভারের ব্যাটিংয়ের আধুনিক কৌশল, বিশেষ করে পাওয়ার হিটিং।
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই আমাদের ব্যাটাররা সাহসী হোক, বাউন্ডারি বের করতে জানুক। সেটা শেখাতে উড আদর্শ।”
শুধু ব্যাট নয়, বিসিবির নজর এবার মাথাতেও। মানসিকভাবে ক্রিকেটারদের দৃঢ় করতে স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট নিয়োগের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। আলোচনায় রয়েছেন ডেভিড স্কট, যিনি হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে কাজ করেছেন পূর্বেও।
সাথে থাকবেন স্থানীয় মনোবিজ্ঞানীরাও, যাতে ভাষাগত জটিলতা না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজ সম্ভব হয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ছিল ভারতের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু সেটি বাতিল হওয়ায় এখন বিকল্প হিসেবে বিসিবি যোগাযোগ করছে নেপাল ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন জানান, “প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতির জন্য আমাদের এমন দলের দরকার যারা আমাদের চাপে ফেলতে পারে।”
টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ মাঠে গড়াবে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। তার আগে জাতীয় দল গড়ে তুলছে ছক্কা মারার সাহস, ব্যাটে জোর আর মস্তিষ্কে স্থিরতা—যা হতে পারে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি রূপান্তরের প্রথম ধাপ।


