বিসিবির প্রতিশ্রুতি শুধু কথার ফুলঝুরি? কার্নিভাল ও স্কুল ক্রিকেটে অর্থ না পেয়ে ক্ষুব্ধ জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তারা
বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিসিবির বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। টেস্ট মর্যাদার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সেই অর্থ।
আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে স্পন্সর প্রাপ্ত স্কুল ক্রিকেটের অর্থ নিয়েও। প্রাইম ব্যাংক জানুয়ারিতেই পুরো অর্থ পরিশোধ করলেও জেলা পর্যায়ে সেটি এখনো পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ক্রীড়া কর্মকর্তা।
বিসিবির নির্দেশনায় টেস্ট রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১২ কার্নিভাল আয়োজন করেছেন প্রায় সব জেলাই। কিন্তু নিজেরা খরচ করে আয়োজন করেও এখনো বকেয়া অর্থের কোনো হদিস নেই বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা বলেন,
“বিসিবির চিঠির পর গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তাকে ফোন করলে তিনি বলেন টাকা পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু এখনো আসেনি। এখন ঊর্ধ্বতনরা ব্যাংক স্টেটমেন্ট চাইলে আমরা কী দেখাবো?”
শুধু কার্নিভাল নয়, এ বছর জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটেও অর্থ বরাদ্দ ছিল। বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই খরচের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, সেই অর্থও পায়নি জেলা সংস্থাগুলো। ফলে বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত খরচে মাঠ ভাড়া, প্যান্ডেল, আয়োজন সম্পন্ন করেছেন।
এক কর্মকর্তা জানান,
“স্কুলগুলো এখন আমাদের কাছে টাকা চাইছে। ফোন করলেই গালাগাল। বাধ্য হয়ে নম্বর ব্লক করেছি। প্রাইম ব্যাংক টাকা দিয়েছে, তাহলে বিসিবি কেন দিচ্ছে না?”
বিসিবি বলছে, অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রাইম ব্যাংকের মতো স্পন্সর প্রতিষ্ঠান জানুয়ারিতেই টাকা পরিশোধ করলে এত দেরি কেন?
একাধিক জেলা ক্রীড়া সংস্থা জানাচ্ছে, তারা বিসিবিকে বারবার চিঠি দিলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি। অনেকে বলছেন, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এমন প্রত্যাশা করলেও, বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
ক্রিকেটভিত্তিক সংগঠনগুলো বলছে, বিসিবির এ ধরনের আচরণ জেলা পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চাকে নিরুৎসাহিত করছে। অনেক জেলা ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতে বিসিবির প্রকল্পে অংশগ্রহণ নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে।
এক ক্রীড়া সংগঠক বলেন,
“ঘোষণা দিয়ে কাজ করিয়ে পরে টাকা না দেওয়া মানে প্রতারণা। স্কুলগুলোকে মুখ দেখাতে পারছি না। বিসিবিকে স্পষ্টভাবে জানানো দরকার, এভাবে আর চলতে পারে না।”
টেস্ট রজতজয়ন্তীর মতো মহৎ উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে যেভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বিসিবির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু অবিশ্বাসই বাড়বে, কমবে ক্রিকেট উন্নয়নের গতি।


