অভিষেক মৌসুমেই বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিপিএল ফাইনাল দেখে মনে হচ্ছিল যেন ম্যাচটি রাজশাহীতেই হচ্ছে। ২৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারিতে সিংহভাগ সমর্থক ছিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পক্ষে। সেই সমর্থনের জোয়ারে ভেসেই ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
আগের ১২ ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটির পর ফাইনাল মঞ্চে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম। তার ৬২ বলে ১০০ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ভর করে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অভিষেক মৌসুমেই এটিই তাদের প্রথম বিপিএল শিরোপা।
টস হেরে আগে ব্যাট করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ১৭৪ রান। জবাবে চট্টগ্রাম রয়্যালস মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায়, হাতে থাকে ২.১ ওভার।
ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া তানজিদ হাসান তামিম এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরির মালিক হন, যা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। পাওয়ার প্লেতেই তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো শুরু ও শেষ—দুই দিকেই আগুন ঝরিয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তিনি ৩ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।
চট্টগ্রামের পক্ষে মিরজা বেগ সর্বোচ্চ ৩৯ রান করলেও অন্য কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি। অধিনায়ক শেখ মেহেদী, নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, হাসান নেওয়াজ ও আসিফ আলী কেউই বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।
এর আগে রাজশাহীর ইনিংসে ওপেনিং জুটিতে তানজিদ তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান ৮৩ রান যোগ করেন। তামিম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। দশম ওভারে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। একাধিক ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
কেন উইলিয়ামসনের ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংসও দলের সংগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। শেষ দিকে তামিম আউট হয়ে গেলে রাজশাহী ১৮০ ছোঁয়ার আগেই থামে, তবে সেটাই যথেষ্ট হয়ে যায়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে আবারও বিপিএল ট্রফি ফিরল। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস শিরোপা জিতেছিল।


