যুদ্ধবিরতির পর ইরানজুড়ে বিজয় উদযাপন, ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলছে তেহরান

যুদ্ধবিরতির পর ইরানজুড়ে বিজয় উদযাপন, ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলছে তেহরান
নিউজ ডেস্ক
২৪ জুন ২০২৫

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার টানা ১২ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানজুড়ে শুরু হয়েছে বিজয় উদযাপন।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানো হয় আলোর প্রদীপ ও আগুন, বাজানো হয় ধর্মীয় সংগীত। ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’—এই স্লোগানে মুখর হয় গোটা শহর।

ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা এই যুদ্ধবিরতিকে ‘কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা জয়ের নিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সহরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন,
“এই বিজয় পশ্চিমা আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

একই সুরে আইআরজিসি-র সাবেক কমান্ডার ও স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি এক্সে লিখেছেন,
“এটা শুধু যুদ্ধের বিরতি নয়, বরং নতুন এক যুগের সূচনা।”

ইরানের পারমাণবিক শক্তি অধিদপ্তরের মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি জাতীয় টেলিভিশনে বলেন,
“ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেউ থামাতে পারবে না। আমাদের অগ্রগতি আর পেছনে ফেরার নয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না গিয়ে এখন কূটনৈতিক টেবিলে ‘শক্ত অবস্থান’ থেকে আলোচনায় বসতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশটি আভ্যন্তরীণভাবে জনগণের কাছে একটি ‘জয়ী শক্তি’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

যদিও ইরান যুদ্ধবিরতিকে বিজয় হিসেবে দেখছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘদিনের বৈরিতা দিয়ে ঘেরা, এবং এই বিরতি সাময়িকও হতে পারে।

১৩ জুন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। উত্তেজনার পারদ চূড়ায় পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা দুই দেশই মেনে নেয়।