৬০০ টাকা নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু
বাংলা ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি, গিটার হাতে দাঁড়িয়ে যিনি দর্শক-শ্রোতার হৃদয় ঝড় তুলতেন, তিনি আইয়ুব বাচ্চু। আজ (১৬ আগস্ট) এই প্রখ্যাত শিল্পীর ৬৪তম জন্মদিন। সংগীতের রাজপথে একক পথিক, যিনি ‘রূপালি গিটার’-এর সুরে প্রজন্মকে কাঁদিয়েছেন, ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, আবার কষ্টও দিয়েছেন—সুরের মোড়কে।
কিন্তু সত্যিই কি তিনি কষ্ট পেতে ভালোবাসতেন?
‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ গানটি যেন শ্রোতাদের মনে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—এই তো গিটারহাতে যিনি হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়াতেন, তিনি কি আদতেই সুখী ছিলেন?
আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, তিনি ছিলেন অভিমানী এবং সংবেদনশীল একজন মানুষ। তার অভিমান ছিল নিঃশব্দ, যন্ত্রণাও ছিল গানে গানে। সারল্য ছিল শিশুর মতো, কিন্তু কণ্ঠে ছিল আগুন।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া আইয়ুব বাচ্চু পরিবারের একমাত্র সংগীতপাগল সন্তান। কিন্তু পরিবারে ছিল না সংগীতচর্চার অনুকূল পরিবেশ। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে হোক ব্যবসায়ী। কিন্তু ছেলে গড়েছিলেন নিজের স্বপ্নের ব্যান্ড।
মাত্র ৬০০ টাকা হাতে নিয়েই ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পা রাখেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রথমে এলিফ্যান্ট রোডের এক হোটেলে থাকতেন। তারপর কষ্ট, সাধনা আর প্রতিভার সমন্বয়ে নিজেকে পরিণত করেন ব্যান্ডসংগীতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রকস্টারে।
আইয়ুব বাচ্চু প্রথম আলোচিত হন সোলস ব্যান্ডের গিটারিস্ট হিসেবে। কিন্তু দলে মতভেদ, অবমূল্যায়ন তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় একের পর এক ব্যান্ড থেকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ৫ এপ্রিল নিজের ব্যান্ড লিটল রিভার ব্যান্ড (পরবর্তীতে এলআরবি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের প্রথম অ্যালবামই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ডাবল অ্যালবাম।
শ্রোতারা তাকে ‘বস’ নামে ডাকতেন। কারণ তিনি শুধু গান গাইতেন না, ব্যান্ডসংগীতকে একটা আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন।
রক ঘরানার বাইরে আইয়ুব বাচ্চু আধুনিক গান, লোকগীতি ও চলচ্চিত্র সংগীতেও রেখেছেন দারুণ ছাপ। যদিও খুব বেশি সিনেমায় গান করেননি, তার গাওয়া গানগুলো পেয়েছে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা।
স্মরণীয় সব গান
তার কণ্ঠে গাওয়া কালজয়ী গানগুলো হলো—
-
চলো বদলে যাই
-
রূপালি গিটার
-
আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি
-
ফেরারি মন
-
এক আকাশের তারা
-
আমি তো প্রেমে পড়িনি
-
সুখের এ পৃথিবী নয়
-
যেও না চলে বন্ধু
-
বাংলাদেশ
-
তিন পুরুষ ইত্যাদি।
আইয়ুব বাচ্চু নেই, কিন্তু তার কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ, বাজানো প্রতিটি স্ট্রিং আজও তরুণদের কাঁপায়, কাঁদায়। ৬৪তম জন্মদিনে আজ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তার ভক্ত-অনুরাগী, সংগীতাঙ্গন এবং গোটা বাংলাদেশ।


