সকল বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

শিক্ষা
সকল বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের
নিউজ ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০২৬

 

সারা দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে প্রশ্নপত্রের মান ও পরীক্ষার মূল্যায়নে সমতা আনতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে ‘যা লিখেছে তাই নম্বর’ নীতি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথাও ভাবা হচ্ছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইরাব) সদস্যদের সঙ্গে ইফতার-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। অতীতে যেভাবে নকলবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল, প্রয়োজনে আবারও একইভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরীক্ষার সময় কোথাও নকলের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রয়োজনে ভিডিও নজরদারির ব্যবস্থা করা হতে পারে, যাতে অনিয়ম বা নকলের ঘটনা ঘটলে তার প্রমাণ সংরক্ষণ করা যায়।

পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা যেন নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগসাজশ কমবে এবং নকলের সুযোগও কমে আসবে। তবে দুর্গম এলাকা, হাওর অঞ্চল বা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে।

খাতা মূল্যায়নের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন না করেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে পাসের হার কিছুটা কমে যাওয়ার পেছনে সেই বাস্তবতাও কাজ করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান উন্নত করে বাস্তবসম্মত ফলাফল নিশ্চিত করা হবে।

এসময় এমপিওভুক্তির জটিলতা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ে ফাইল নিষ্পত্তিতে অযথা দীর্ঘসূত্রতা বরদাস্ত করা হবে না। কোনো ফাইল যেন ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় অকারণে আটকে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।