জাহাজঘাটে দখল নিয়ে সংঘর্ষ: সমঝোতা ভেঙে ফের রক্তপাত

অপরাধ
জাহাজঘাটে দখল নিয়ে সংঘর্ষ: সমঝোতা ভেঙে ফের রক্তপাত

আহত সোহাগ চৌকিদার

১২ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনার তালতলীতে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাহাজঘাটে খেয়া পারাপারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ট্রলার মাঝিকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং একটি ট্রলার নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সকালে উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত সোহাগ চৌকিদারকে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর মাঝি সোহেল প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ট্রলার মালিক ইলিয়াস চৌকিদার অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহিদ খানের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক তিনটি ট্রলারে এসে তাঁর ট্রলারের মাঝি সোহাগ চৌকিদারকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তাঁর ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়ালভাঙ্গা এলাকার আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকে জাহাজঘাটে খেয়া পারাপার নিয়ে বিরোধ চলছে।

প্রথমে স্থানীয় সগির মিয়া জাহাজের লোকজন পারাপারের দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁকে সরিয়ে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেন ইউপি সদস্য জাহিদ খান। এরপর থেকে ইলিয়াস চৌকিদারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। এর আগে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়।

শনিবার তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফুল ইসলাম দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে পরদিনই আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য জাহিদ খান বলেন, আমার লোকজনের ওপরই উল্টো হামলা হয়েছে। ট্রলার ডুবানো বা কাউকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আইরিন আলম বলেন, আহত সোহাগ চৌকিদারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

তালতলী থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পক্ষকে সমঝোতা করা হয়েছিল। এরপরও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।